মোঃ জুলহাজুল কবীর নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, প্রতিনিধি : নবাবগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে, যা বিজয়া দশমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে, যেখানে ভক্তরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানায় এবং আগামী বছর আবারও আগমনের জন্য প্রার্থনা করে। ভক্ত নেচে-গেয়ে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান, যা উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫দিন নবাবগঞ্জসহ দেশব্যাপি পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। এবার দেবী দুর্গা জগতের মঙ্গল কামনায় গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঝড় বৃষ্টি হবে এবং শস্য ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে স্বর্গে বিদায় নেন নৌকায় চড়ে। যার ফলে জগতের কল্যাণ সাধিত হবে।বুধবার সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকের বাদ্য আর গান-বাজনা ছাড়া বিদায়ের করুণ ছায়ায় সারিবদ্ধভাবে একে একে নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। উপজেলার প্রায় ৬৯মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় নিজ নিজ এলাকার নদীতে । আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত ছিল, তাছাড়া এলাকার রাজনৈতিক দিক থেকেও সজাগ দায়িত্বশীল পরিদর্শন অর্থ সহায়তাসহ দায়িত্ব পালন করে। সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য এ বিজয়া শোভাযাত্রা। বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভক্তরা বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে বের করা শুরু করে প্রতিমাবিসর্জনের উদ্দেশ্যে।
নবাবগঞ্জের দাউদপুর পূজা মন্ডপে মন্ত্রপাঠ ও পূজা অর্চনার দায়িত্বে ছিলেন পুরোহিত শ্রী বিজয় কুমার ব্যানার্জী, পূজা উদ্ যাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুবাস চন্দ্র সরকার।
বিভিন্ন প্রকার নিরাপত্তা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এবছর আমরা পূজা সমাপ্ত করেছি,জানালেন- শ্রী প্রীতি গোপাল ঘোষ,দাউদপুর বারোয়ারী কালী ও দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, দেশ নায়ক তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় এবং ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেনের নির্দেশে আমরা বিএনপির পক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের পাশে সবসময় ছিলাম, ভবিষ্যতেও বিএনপি পাশে থাকবে।
https://shorturl.fm/G2Zwu
https://shorturl.fm/tzfFL
https://shorturl.fm/D6q4K
https://shorturl.fm/sN04m